অনলাইনে ই পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম

অনলাইনে ই পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম


অনলাইনে ই পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম

অনলাইনে ই পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে আজকের আমাদের এই আর্টিকেলে। আজকের আমাদের এই আর্টিকেল আপনাদের সকলের উপকারে আসবে ইনআশাল্লাহ। কেননা বর্তমান সময়ে ই পাসপোর্ট এর আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে সকলেই জানতে চান। আবেদন করার নিয়ম সহ অন্যান্য তথ্য নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।


পাসপোর্ট
কি

ই পাসপোর্ট মূলত
একটি বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। এই
প্রসেসে পাসপোর্ট এর ভিতরে একটি
ইলেকট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ থাকে। উক্ত চিপের মধ্যে যে তথ্যগুলো আছে
তা পাসপোর্ট ধারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ব্যবহার করা হয়।


পাসপোর্টের সুবিধা

ই পাসপোর্টে অনেক রকম সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। যে সকল সুবিধা গুলো আপনারা ই পাসপোর্টে পেয়ে যাবেন তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
  • প্রথমত আপনারা ই পাসপোর্ট থেকে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিউচার পেয়ে যাবেন।
  • মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে যে সকল ডাটাবেজ বা তথ্য রয়েছে তা ই পাসপোর্ট হস্তান্তর করা হবে।
  • এই পাসপোর্টে মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে ১০ বছর পেয়ে যাবেন।
  • বর্তমানে পাসপোর্ট আছে তাতে প্রথম ২ পৃষ্ঠাতে ব্যক্তির তথ্যাবলি রয়েছে। কিন্তু ই পাসপোর্টে প্রথম ২ পৃষ্ঠাতে এগুলো থাকবে না।
  • স্মার্ট কার্ডের একটি চিপ থাকবে যেখানে আপনার সকল তথ্য বলে উল্লেখিত থাকবে।

পাসপোর্ট করতে
কি কি লাগে

ই পাসপোর্ট করতে আপনার বেশ কিছু ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে বা কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে। আপনি যদি ই পাসপোর্ট করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার কাগজপত্র গুলো বৈধ হতে হবে। যে সকল কাগজপত্র গুলো ই পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজন তার নিম্নে দেওয়া হল।
  1. প্রথমত আপনার এনআইডি অথবা স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি।
  2. পরিচয় পত্রের মূল কপি দেখাতে হবে অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে।
  3. আপনার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
  4. জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট।
  5. বাবা-মায়ের ছবি।
  6. বাবা-মায়ের এই আইডি কার্ডের কপি জমা দিতে হবে।
  7. যারা চাকরিজীবী রয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে অনাপত্তি পত্র জমা দিতে হবে।
  8. যারা অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী রয়েছেন তাদের পেনশন দলিল দেখানোর প্রয়োজন হবে।
  9. যদি আপনার বিবাহিত হন তাহলে বিবাহ সনদ বা নিকানামা এর প্রয়োজন হবে।
  10. যদি বিবাহে বিচ্ছেদ হয় তবে তালাকনামা এর দলিল প্রয়োজন হবে।
মূলত এই সকল কাগজপত্রগুলো প্রয়োজন হবে ই পাসপোর্ট তৈরীর ক্ষেত্রে। আরও যদি অন্যান্য ডকুমেন্টস প্রয়োজন হয় তবে আপনারা ই পাসপোর্ট করার সময় বুঝতে পারবেন।
অনলাইনে ই পাসপোর্ট করার
নিয়ম

পাসপোর্ট ফর্ম
পূরণের শর্তাবলী

ই পাসপোর্ট ফরম পূরণ এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্তাবলী রয়েছে। যেগুলো পূরণ করার পরে আপনারা ই পাসপোর্ট করতে পারবেন। এ পাসপোর্ট করার জন্য যে শর্তাবলী রয়েছে অথবা যে নির্দেশাবলী রয়েছে সেগুলো হলঃ-
  1. ই পাসপোর্ট এর আবেদন পত্র সম্পূর্ণ অনলাইনে পূরণ করা সম্ভব।
  2. ই পাসপোর্টে আবেদন করার জন্য আপনার কাগজপত্র গুলোর সত্যায়ন করার প্রয়োজন পড়বে না।
  3. ই পাসপোর্ট ফরমে কোন ছবি এর প্রয়োজন হবে না।
  4. ফরম পূরণের সময় অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র এবং জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী পূরণ করতে হবে।
  5. আপনার বয়স ১৮ বছর এর বেশি হতে হবে। যদি ১৮ বছর বয়স এরকম হয় তবে পিতা এবং মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর প্রয়োজন হবে।
  6. ২০ বছরের ঊর্ধ্বে হলে জাতীয় পরিচয় পত্র অবশ্যই প্রয়োজন হবে।
  7. ফ্রমে যে সকল স্থানে তারকা চিহ্ন থাকবে সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
  8. আবেদনপত্রে বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। স্থায়ী ঠিকানা ও উল্লেখ করতে হবে।
  9. ১৮ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের উপরে যাদের বয়স রয়েছে তাদের ই পাসপোর্ট এর মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। আর পাসপোর্টে ৪৮ টি পৃষ্ঠা থাকবে।
  10. প্রাসঙ্গিক সনদসমূহ এর প্রয়োজন হবে। যেমন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি।
  11. বিবাহ হয়ে থাকলে বিবাহ সনদ এর প্রয়োজন হবে। আর যদি বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তবে তালাকনামার প্রয়োজন হবে।
  12. দেশের মধ্যে আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফি এর উপরে নির্ধারিত আহারে ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ দিতে হবে। বিদেশে আবেদনের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত যে ফি রয়েছে তা দিতে হবে।
  13. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন হবে।
  14. সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরের জন্য পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।
  15. দেশের মধ্যে রেগুলার পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদান করা হলে এবং সকল তথ্য সঠিক থাকলে ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।
  16. আবেদন করার সময় অবশ্যই মূল কাগজপত্র গুলো দিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করবেন।
  17. যদি পাসপোর্ট হারিয়ে যাই বা চুরি হয়ে যায় তবে নিকটস্থ থানা জিডি করতে হবে।

পাসপোর্ট ফি
কোথায় দিতে
হয়

ই পাসপোর্ট ফি
জমা সাধারণত দুইভাবে দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে আপনি সরাসরি অফিসে উপস্থিত হয়ে জমা দিতে পারবেন অথবা অনলাইনের মাধ্যমেও জমা দিতে পারবেন। তবে সচেতনতার দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা অনলাইনে পেমেন্ট করা থেকে বিরত থাকতে বলব। কারণ কোনো কারণে পাসপোর্ট বাতিল করতে হলে পাসপোর্ট ফি বাতিল হয়ে
যাবে অনলাইনের মাধ্যমে পেমেন্ট করলে। তাই সর্বোপরি চেষ্টা করবেন সরাসরি ই পাসপোর্ট ফি
প্রদান করার।


পাসপোর্ট করতে
কত টাকা
লাগে

এই পাসপোর্ট তৈরি
করার জন্য আবেদন থেকে শুরু করে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত চার হাজার টাকা থেকে ১৪ হাজার টাকা
পর্যন্ত খরচ হতে পারে।


পাসপোর্ট সাধারণত একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের হয়ে থাকে। মেয়াদ বেশি হলে খরচ কিছুটা বেশি পড়বে। এছাড়াও পাসপোর্টে পৃষ্ঠা সংখ্যা বেশি থাকলে এবং আপনি যদি জরুরী ভিত্তিতে ডেলিভারি নিতে চান তাহলে বেশি টাকা খরচ করতে হবে।

১০ বছর মেয়াদী
পাসপোর্ট করতে কত টাকা
লাগে

মেয়াদ সম্পূর্ণ একটি পাসপোর্ট তৈরি করার জন্য সাধারণভাবে  ৫,৭৫০ টাকা খরচ হবে। ৫,৭৫০ টাকা
আপনি ৪৮ টি পৃষ্ঠা
পাবেন। অপরদিকে ৬৪ পৃষ্ঠা নিতে
হলে আট হাজার ৫০
টাকা ফি দিতে হবে।
এক্ষেত্রে জরুরী ভিত্তিতে পাসপোর্ট পেতে হলে ৪৮ পৃষ্ঠার জন্য
আট হাজার৫০ টাকা এবং ৬৪ পৃষ্ঠার জন্য
১০ হাজার ৩৩৫ টাকা ফি পরিশোধ করতে
হবে।


পাসপোর্ট অনলাইন
আবেদন বাতিল করার
নিয়ম

অনলাইনে ই পাসপোর্ট আবেদন
করার সময় আবেদনের ছোটখাটো কিছু ভুল থাকতে পারে। এক্ষেত্রে প্রথমে তার সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। যদি সংশোধন করা না যায় তাহলে
বাতিল করার জন্য প্রথমে আঞ্চলিক অফিসের সহকারী পরিচালকের কাছে একটি লিখিত আবেদন প্রদান করতে হবে। আবেদনটির সাথে প্রধান এপ্লিকেশনটি যুক্ত করা ভালো। সবকিছু বিবেচনা করে আঞ্চলিক অফিসার আপনার আবেদনটি বাতিল করতে পারবেন।


পাসপোর্ট রিনিউ
করার
নিয়ম

বহির্বিশ্বে চলাচলের জন্য  আমরা
যে পাসপোর্ট তৈরি করি তা একটি নির্দিষ্ট
সময়ের জন্য। পাসপোর্ট এর একটি মেয়াদ
থাকে। মেয়াদ শেষ হলে পুনরায় রিনিউ করতে হয়। পাসপোর্ট রিনিউ করার কিছু শর্ত রয়েছে তার নিচে দেওয়া হল।

  •  প্রথমত অনলাইনে আবেদন করতে হবে
  •  এরপর পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য যে ফি দিতে
    হয় তা অনলাইন অথবা
    অফলাইনে প্রদান করতে হবে।
  •  পরবর্তী ধাপ হল আপনার নিকটবর্তী
    একটি পাসপোর্ট অফিসে আবেদনের কপি এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে।
  •  পাসপোর্ট এর ডেলিভারি স্লিপ
    এবং বায়োমেট্রিক তথ্যগুলো সংগ্রহ করতে হবে।
  • তাদের
    দেওয়া নির্ধারিত তারিখে সরাসরি উপস্থিত হয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।

ওপরে
দেখানো পদ্ধতি গুলোর সঠিকভাবে সম্পন্ন আপনার পাসপোর্ট রিনিউ হয়ে যাবে। আপনি যদি বিদেশ থেকে পাসপোর্ট রিনিউ করাতে চান সে ক্ষেত্রে সেদেশে
অবস্থিত বাংলাদেশের এম্বাসিতে যোগাযোগ করতে হবে।



পাসপোর্ট ডাউনলোড পিডিএফ
ফর্ম

অনেকেই ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফরমটি ডাউনলোড করতে চান। এক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই এই লিংকে যেতে
হবে। লিংকে প্রবেশ করলেই সরাসরি আপনার ডিভাইসে এই পাসপোর্ট ফরম
ডাউনলোড হয়ে যাবে।


আপনার ডিভাইসে ই পাসপোর্ট ফরম
ডাউনলোড করতে কোন সমস্যা হলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমাদের এক্সপার্ট টিম আপনাকে সহায়তা প্রদান করবে।

অনলাইনে ই পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম

বিদেশ থেকে পাসপোর্ট ফি দেওয়ার নিয়ম

বিদেশে থাকা অবস্থায় অনেকেরই  পাসপোর্ট
এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মেয়াদ উত্তীর্ণের কমপক্ষে ছয় মাস আগেই  নবায়ন
ফর্ম উত্তোলন করতে হয়। এক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই  দ্রুতাবাসে
যোগাযোগ করতে হবে। আপনি যে দেশে অবস্থান
করছেন সে দেশে বাংলাদেশী
দূতাবাস নামে একটি অফিস রয়েছে। সেখানে সরাসরি উপস্থিত হয়ে পাসপোর্ট এর ফি জমা
দিতে পারবেন এবং নতুন করে নবায়ন করতে পারবেন।

FAQ

আবেদন বাতিল করলে পাসপোর্ট ফি বাতিল হবে
কিনা?

উত্তরঃ- আপনি যদি অনলাইন পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করেন তাহলে আবেদন ফি বাতিল হয়ে
যাবে। তবে আপনি যদি জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার ব্যবহার করে অফলাইনে আবেদন  ফি
জমা দিয়ে থাকেন তাহলে সেটি মেয়াদ থাকবে ছয় মাস পর্যন্ত। অর্থাৎ ছয় মাসের মধ্যে আপনি আবার আবেদন করতে পারবেন।


পাসপোর্ট আবেদনে কোন ভুল হলে আবেদন বাতিল করতে হবে?

উত্তরঃ- না, পাসপোর্ট আবেদনের সময় যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে পাসপোর্ট অফিসে তা জানাতে হবে।
সংশোধন করার মতো ভুল হলে সেখানে একটি লিখিত আবেদন করতে হবে। তবে যদি সংশোধন করা না যায় সে
ক্ষেত্রে বাতিল করে নতুনভাবে আবেদন করায় ভালো।


পাসপোর্ট সতর্কতা

আমাদের সকল বিষয়ের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তেমনিভাবে ই পাসপোর্ট এর দিক থেকেও আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কোন কারণে আমাদের পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অবহেলা না করে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ থানাতে জিডি করতে হবে। তা না হলে পরবর্তী সময়ে বড় রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

অবশ্যই পাসপোর্ট করার সময় আপনার সকল বৈধ তথ্যগুলো তুলে ধরবেন। আসল ডকুমেন্টগুলো দিয়ে ই পাসপোর্ট ফরম পূরণ করবেন। যদি অবৈধ ডকুমেন্টস বা অন্যান্য কাগজপত্র দিয়ে ফরম পূরণ করেন। তবে আপনি ই পাসপোর্ট পাবেন না। সুতরাং এই সকল বিষয়গুলোর দিকে ও আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
আরো জানতে ভিজিট করুন

Leave a Comment