কেন চুল পড়ে | চুল পড়া রোধ করার উপায় | ছেলেদের চুল পড়া বন্ধ করার উপায় |

কেন চুল পড়ে | চুল পড়া রোধ করার উপায় | ছেলেদের চুল পড়া বন্ধ করার উপায় |

কেন চুল পড়ে

কেন চুল পড়ে সে সম্পর্কে বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই হতাশাগ্রস্থ। সমস্যাটি শুধু ছেলেদের অথবা শুধু মেয়েদের নয়, চুল পড়ার সমস্যা সকলের। বর্তমানে বয়স ৩০ না পেরোতেই চুল পড়ার সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এ সমস্যায় ভুগছেন। চুল পড়া অনেক সময় বংশগত কারণে হয়ে থাকে। আসুন জেনে নেই চুল পড়ার কিছু কারণ।

চুল পড়া রোধ করার উপায়

চুল পড়ার জন্য নানারকম বিষয় দায়ী থাকতে পারে, তবে এ বিষয়গুলোর সবথেকে বেশি কার্যকর সেগুলোর কিছু উদাহরণ দিচ্ছি,

  • কোন মানুষ যদি অতিরিক্ত রাত জাগা  দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও  হতাশাগ্রস্থ থাকে তাহলে তার চুল পড়তে পারে।
  • অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের রং, চুলে ব্যবহার করার জেল  ইত্যাদি ব্যবহার করার কারণেও চুল পড়তে পারে। কারণ এসব রং জেল এবং উন্নত মানের নয়। চুলে ব্যবহার করলে চুল পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
  • তরুণদের মাঝে বাহিরে খাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি থাকে, বাইরের খাবার চর্বি ও চিনি বেশি থাকে। এটাই শিশু-কিশোরদের চুল পড়ার প্রধান কারণ।
  • অনেকেই ডায়েট করে থাকেন, ডায়েট করার সময় শরীর পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এমন সময় মাথায় চুল ঝরে পড়তে পারে।
  • ধূমপান করলে চুল পড়তে পারে, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় থাকলে চুল পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • হরমোন এবং থাইরয়েডের সমস্যার কারণে অনেক চুল পড়ে, থাইরয়েডের সমস্যার সমাধান করার জন্য যে ওষুধ ব্যবহার করা হয় তা সেবন করলে চুল পড়তে পারে।
  • আমিষের গঠনে চুল তৈরি হয়, শ্যাম্পুর ক্ষার স্পর্শ গেলে তা ভেঙে যায়। তাই অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা ঠিক না। অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে চুল ঝরে পড়ে।
  • বাসা বাড়ির পানির ট্যাংকে প্রচুর পরিমাণে ক্লোরিন বিচিং পাউডার থাকে। তাই এর পানি দিয়ে গোসল করলে চুল ঝরে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • নিয়মিত গোসল না করার ফলে মাথায় প্রচুর পরিমাণে ময়লা জমে, যা থেকে পুষ্টি কমে যায় এবং চুল ঝরে পড়ে।

চুল পড়া রোধ করার ঘরোয়া উপায়

চুল নানারকম কারণে পড়তে পারে। চুলপড়া যেমন সমস্যা রয়েছে তেমনি এর সমাধানও রয়েছে। তবে সমাধান করার আগে জানতে হবে কেন চুল পড়ছে্। কোন কারণে চুল পড়ছে সেটা জেনে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিলে তবেই দ্রুত ফলাফল পাওয়া যাবে। আসুন জেনে নিই চুলপড়া রোধ করার স্বাভাবিক কিছু ঘরোয়া উপায়।

  • ঘুমাতে যাবার আগে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত নারিকেল তেল ভালভাবে ম্যাসাজ করবেন। সারারাত ম্যাসাজ অবস্থায় থাকবে। সকালে সেটা সুন্দর করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নেবেন।
  • চুল পড়া রোধ করার জন্য অ্যালোভেরা অনেক ভালো কাজ করে। অ্যালোভেরা ব্লেন্ড করে চুলে এক ঘণ্টা লাগিয়ে রাখতে হবে, এরপর মাইন্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। অ্যালোভেরা চুল পড়া এবং ত্বকের চুলকানি রোধ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
  • লেবুর রসের সঙ্গে ডিমের কুসুম এবং অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন, এরপর সুন্দর ভাবে ধুয়ে ফেলুন্ এতে করে আপনার চুল পড়া বন্ধ হবে এবং দ্রুত চুল বৃদ্ধি পাবে।
  • চুল পড়া রোধে পেয়াজ  এর ভূমিকা অপরিসীম। পেঁয়াজের রস চুলের গোড়ায় 15 থেকে 20 মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। তাহলে চুল পড়া রোধ হবে।
  • চুল পড়া বন্ধ করার জন্য মেথি অনেক ভালো কাজ করে। নারিকেল তেলের মধ্যে 2 চামচ মেথি দিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ রেখে দিন এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
  • সরিষার তেল ও মেহেদী ব্যবহারে চুল পড়া রোধ করা যায়, তবে সপ্তাহে একদিনের বেশী ব্যবহার করা ঠিক না । আড়াইশো গ্রাম এর মধ্যে কিছু মেহেদি পাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা হয়ে গেলে চুলের গোড়ায় মেসেজ করতে হবে।

 উপরের টিপসগুলো সুন্দরভাবে ব্যবহার করতে পারলে আশা করা যায় চুল পড়া রোধ হবে। এরপরও যদি চুলপড়া কোনভাবে রোজ না হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।

চুল পড়ার ঔষধ

অনেক সময় বয়সের কারণে চুল পড়ে যায়, এমনকি অনেকে টাক হয়ে যায়। এ সকল মানুষের জন্য যে ওষুধ ব্যবহার করা হয় সেটি হলো মিনোক্সিডিল। মিনোক্সিডিল ছাড়াও বাজারে যাওয়ার আনন্দ ধরনের চুল পড়ার ঔষধ পাওয়া যায়। তবে এগুলোর বেশিরভাগই কাজ করে না। সবচাইতে কার্যকরী ঔষধ মিনোক্সিডিল। তবে অনেকের বংশগতভাবে চুল পড়ে থাকে তাদের জন্য ঔষধ কাজ করে না।

ছেলেদের চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

নারীদের পাশাপাশি ছেলেদের চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে। নারীরা বেশিরভাগ সময় বাসায় থাকে। এবং তারা তাদের চুলের অধিক যত্ন নেয়। নারীদের তুলনায় বিন্দুমাত্র যত্ন পুরুষরা নেই না। যার কারনে ছেলেদের অল্প বয়সে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। চুল পড়ে গেলে অনেক মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস কম হয়। মানুষ যখন হতাশাগ্রস্থ হয়ে যায়। আসুন ছেলেদের চুল পড়া বন্ধ করার কিছু উপায় জেনে নেই,

  • ছেলেদের চুল পড়া রোধ করার জন্য ভিটামিন ই অনেক কার্যকর ভূমিকা রাখে, ভিটামিন এ মাথায় ব্যবহার করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, এতে করে চুলের স্বাস্থ্যকর রং ঠিক থাকে।
  • ছেলেদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি, কারণ অনেকে বাহিরে ভাজাপোড়া খেয়ে থাকেন। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়া যাবেনা। খাদ্য তালিকায় মাংস যুক্ত প্রোটিন রাখতে হবে।
  • মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা চুল পরিষ্কার করে না, তাই চুলে অনেক খুশকি এবং ত্বকে নানা ধরনের সংক্রমণ হতে পারে। তাই চুলের যত্ন না নিলে চুল পড়া রোধ করা সম্ভব না।
  • অ্যালোভেরা, পেঁয়াজ, মেহেদী, মেথি চুলের গোড়ায় ব্যবহার করতে হবে। চুল পড়া রোধ করতে সহায়ক।
  • চুল পড়ার অন্যতম একটি কারণ হলো শরীরে পানিশূন্যতা, তাই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  •  গ্রিন টি চু ঝরে পড়া রোধ করতে ভালো কাজ করে, এক কাপ পানির মধ্যে দুইটি গ্রিন টি ব্যাগ মিশিয়ে নিন, এরপর চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ভালভাবে মাসাজ করুন। 10 থেকে 15 দিন করার পরও আপনি ফলাফল পেয়ে যাবেন।
  • ছেলেরা বাহিরে অনেক পরিশ্রম করেন, তাই মাথায় ত্বক ঘেমে থাকে। মাথা ঘেমে গেলে অ্যালোভেরা ও নিমপাতা  রস দিয়ে ভালোভাবে গোসল করে নিতে হবে।
  • ছেলেরা ধূমপান ও মদ্যপান করে থাকে। ধূমপান ও মদ্যপানের কারণে চুল পড়তে পারে। তাই ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দিতে হবে।

 
যদি কোনো মানুষের চুল না থাকে তাহলে সে মানুষগুলো হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়। তাদেরকে নিয়েও অনেকে ট্রল করতে থাকে। অনেক মানুষের হয় চুল পাতলা হয়ে যায় চুল পাতলা হওয়ার পেছনে না নানান  ধরনের কারণ থাকে। চুলে কেমিক্যাল এর ব্যবহার, চুলের যত্ন না নেওয়া ইত্যাদি কারণে চুল পাতলা হতে পারে। তাই চুল ঘন করা সবারই ইচ্ছা থাকে।

চুল ঘন করতে হলে চুলের যত্ন নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। চুলের যত্ন নিলে চুল ঘন হবে। যদি চুল পড়তে থাকে তাহলে ঘরোয়া উপায়ে চুল ঘন করার পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করতে হবে। অ্যালোভেরা পেঁয়াজের রস চুলে ম্যাসাজ করতে হবে। চুলের ভেতর যেন ময়লা না জমে সেজন্য নিয়মিত শ্যাম্পু করতে হবে।

চুল পড়া বন্ধ করার তেলের নাম

চুল বন্ধ করার জন্য আমরা সবাই নানান ধরনের উপায় অবলম্বন করি। এগুলোর বেশিরভাগই সফল হতে পারিনা। তাই চুল পড়া বন্ধ করার জন্য অনেকেই তেলের খোঁজ করেন। আসুন জেনে নেই কোন গুলো সব থেকে বেশি ভালো।

রোজমেরি অয়েল

এই তেলটি রক্তনালী প্রসারিত করে সেই সাথে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করে চুল গজাতে সাহায্য করে। এটি নারিকেল তেলের সাথে ছয় থেকে সাত ফোঁটা মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে। এটি চুল ঘন করে। কিছুদিন ব্যবহার করলে অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

বার্গামট অয়েল

কোন ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ে যায়

ভিটামিন এ এর অভাবে মাথার চুল প্রাণহীন এবং রুক্ষ হয়ে পড়ে, আবার ভিটামিন-এ যদি বেশি হয় তাহলে চুল ঝরে পড়তে পারে। যার কারণে খাদ্যতালিকায় শাকসবজি দুধ আমিষ জাতীয় খাবার বেশি থাকা প্রয়োজন। চুল পড়া রোধ করতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল বেশ ভালো কাজ করে। প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনটি করে ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেতে পারেন।

এছাড়াও চুলে দেওয়ার জন্য স্পেশাল ভিটামিন ই ক্যাপসুল পাওয়া যায়। এছাড়াও ভিটামিন সি এর অভাবে চুল খসখসে ও রুক্ষ হয়ে যায়। তাই খাদ্যতালিকায় বেশি করে কমলালেবুর মাল্টা থাকা প্রয়োজন। ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার খেলে চুল চকচকে এবং থাকে। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন কোন ভিটামিনের অভাবে চুলের সমস্যা হয়।

চুল পড়া বন্ধ করার ইসলামিক উপায়

মাথার চুল পড়া বা টাক হয়ে যাওয়া অনেক বিব্রতকর এবং যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার, তাই নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে মাথার চুল ফিরিয়ে আনার চেষ্টা সবাই করে। আসুন জেনে নেই মাথার চুল পড়া বন্ধ করার ইসলামিক উপায়।

مُسَلَّمَةٌ لَا شِيَةَ فِيهَا ا

সুরা বাকারার ৭১ নম্বর আয়াত চুল পড়া রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

প্রথমে অজু করে দরুদ শরীফ পড়তে হবে, এরপর আয়াতটি পড়ে তেলে ফু দিয়ে সেই তেল মাথায় লাগাতে হবে। আয়াত ৪১ বার অথবা ২১ বার পড়তে হবে। ইনশাল্লাহ এভাবেই মাথার চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব। মাথার চুল পড়া ছাড়াও মুখের দাগ ,ব্রন ইত্যাদির সমাধান এ আয়াতের মধ্যে পাওয়া যাবে।

চুল পড়া রোধ করার জন্য ভালো কাজ করে। ছেলেদের জন্য এটাই অনেক ভালো। ছেলেদের মাথা ঘেমে গিয়ে মাথায় খুব ইনফেকশন হতে পারে। এই তেলটি নারিকেল তেলের সাথে ৩ থেকে ৫ টোপ মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে। এরপর কিছুক্ষন রেখে দিয়ে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তাহলে অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
উপসংহার: প্রিয় পাঠক, আমাদের সর্বোচ্চ টা  আমরা আপনাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি,,, আশা করি এসকল বিষয় বস্তু থেকে আপনারা উপকৃত হতে পারবেন। সর্বোপরি সুস্থ থাকুন এটাই আমাদের কামনা। পরবর্তীতে কোন বিষয়ে জানতে আগ্রহী হলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। আসসালামু আলাইকুম।

Leave a Comment