ন্যানো টেকনোলজি কি? এর ব্যবহার সুবিধা ও অসুবিধা

ন্যানো টেকনোলজি কি? এর ব্যবহার সুবিধা ও অসুবিধা

প্রযুক্তি সম্পর্কে যাদের জানার অধীর আগ্রহ তাদের অবশ্যই ন্যানো টেকনোলজি সম্পর্কে জানা জরুরী একটি  বিষয়। ন্যানো টেকনোলজি এর সঠিক মানে হল মাইক্রো প্রযুক্তি। বা ছোট প্রযুক্তি, অর্থাৎ কোন বৃহৎ উপাদানকে প্রযুক্তির মাধ্যমে ছোট করাকেই ন্যানো টেকনোলজি বলে।
আজকে আমরা আমাদের এই পাঠে টেকনোলজির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে যদি জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

ন্যানো টেকনোলজি কি

প্রতি এক মিটারের ১০০ কোটি ভাগের এক ভাগ্যে আমরা বলে থাকি এক ন্যানোমিটার। এছাড়াও যদি বলা হয় যে আণবিক এবং পারমানবিক স্কেলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডিভাইস তৈরি করার জন্য ধাতব বস্তুগুলোকে অতি নিখুঁতভাবে কাজে লাগানোর বিজ্ঞানকে ন্যানো টেকনোলজি অথবা ন্যানো প্রযুক্তি বলা হয়।
ন্যানো হল একটি গ্রিক শব্দ। এটির আক্ষরিক অর্থ হলো সূক্ষ্ম বা ছোট অথবা ক্ষুদ্র। অর্থাৎ এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষুদ্র পদার্থ গুলোকে বিশ্লেষণ করা যায়। এই প্রযুক্তির অনুপরমানু সহ পদার্থবিজ্ঞান যে বিজ্ঞান যৌব বিজ্ঞান সম্পর্কিত সকল বিষয়কে একত্রিত করতে পারে।

ন্যানো টেকনোলজির ইতিহাস

১৯৫৯ সালে একটি বৈঠকের মধ্যে আমেরিকান বিজ্ঞানী রিসার্চ  ফাইম্যান এই কথাটি উল্লেখ করেন। ওই বৈঠকের মধ্যে তিনি এই কথাটির আলোচনা করেন এবং এ কারণে তিনি ন্যানো টেকনোলজির জনক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
যদিও এই বৈঠকের প্রায় ১৫ বছর পরে জাপানি একজন বিজ্ঞানী তার মত করে ন্যানোটেকনোলজির একটি সংজ্ঞা প্রণয়ন করে। তিনি বলেন যে এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা অনু পরমাণু দিয়ে তৈরিকৃত পদার্থের পৃথক করন এবং একত্রি করন হওয়ার প্রক্রিয়া।

ন্যানো টেকনোলজি কি?

ন্যানো টেকনোলজির প্রয়োগ

ন্যানোটেকনোলজি আসার পরে বিশ্বের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এক বিপুল পরিমাণ পরিবর্তন এসেছে। এবং এই পরিবর্তনের হাত ধরেই প্রতিটা দেশ উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। আসুন জেনে নেই ন্যানো  টেকনোলজি কোন কোন খাতে বেশি প্রয়োগ করা হয়:

স্বাস্থ্য খাতে

বর্তমান সময়ে উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন ছোট ছোট কিছু রোবট তৈরি করা হচ্ছে যা মানুষের শরীরে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে অপারেশন করতে সক্ষম।

কৃষি ক্ষেত্রে

এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে এক বিপুল পরিমাণ উন্নতি এসেছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি জমির সঠিক ব্যবহার করা যায়। এবং কি পরিমান সার প্রয়োগ করলে ফসল ভালো হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানা যায়। তাই বলা যায় কিছু ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিসীম।

শিল্প খাতে

আমরা অনেকেই জানিনা যে শিল্প ক্ষেত্রে কিভাবে ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহার করে। আসলে শিল্পক্ষেত্রে যে বড় বড় কারখানায় শ্রমিকদের কাজ করে সে জায়গাগুলোতে ন্যানো টেকনোলজির ব্যবহার হয়ে থাকে। এবং এদের ব্যবহার কারণে মানুষের স্বাস্থ্যগত দিক আরো উন্নত হয়।

এছাড়া আরো বেশ কিছু ক্ষেত্রে ঘটে থাকে যেমন:

  1. মহাকাশযানের বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরিতে
  2. জ্বালানি তৈরীর কাজে
  3. বস্তশিল্পে 
  4. ইলেকট্রনিক বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার
  5. কম্পিউটারে ছোট করুন নানা ধরনের অংশ তৈরিতে
  6. বিভিন্ন কাজের জন্য রোবট তৈরিতে
  7. ঔষধ এবং বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক তৈরি করার জন্য

ন্যানো টেকনোলজির সুবিধা

  1. এটি ব্যবহার করার মাধ্যমে আমাদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস গুলো আরো অনেক ছোট করা যায়। যেমন পূর্বের দিনে ব্যাটারি ,সোলার প্যানেল ইত্যাদি জিনিসগুলো ছিল অনেক বৃহৎ যা আস্তে আস্তে অনেক ছোট আকার ধারণ করছে।
  2. এমন কিছু অঞ্চলে মানুষ কাজ করতে পারত না সে জায়গাগুলোতে ন্যানো টেকনোলজি দিয়ে রোবট তৈরি করে কাজ করা যাচ্ছে।
  3. এর ফলে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তণ এসেছে। মানুষের শরীরের দেহ কোষের মধ্যে ন্যানো রোবট পাঠিয়ে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা যায়।
  4. এছাড়াও এই টেকনোলজি ব্যবহার করে যে সরঞ্জামগুলো তৈরি করা হয় তা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং উন্নত মানসম্পন্ন হয়।

ন্যানো টেকনোলজি কি?

ন্যানো টেকনোলজির অসুবিধা

  1. এটি ব্যবহার করে বিশ্বে যে পারমাণবিক অস্ত্রগুলো তৈরি হচ্ছে যা আমাদের অত্যন্ত ভয়ংকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে।
  2. এটা তৈরি করার জন্য যেটি প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয় তার দাম অনেক বেশি হওয়ার কারণে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো এটির প্রয়োগ ঘটাতে পারে না।
  3. প্রযুক্তির সঙ্গে থাকা বিষাক্ত বর্জ্য দ্বারা পরিবেশ দূষণ হয়
  4. উৎপাদন এবং কৃষি কাজে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়ে ফেলছে
  5. তেল এবং হীরা এগুলো মূল্যহীন হয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে
  6. ফুসফুসে আক্রমণ ঘটাতে পারে কার্বন ন্যানো টিউব
  7. এছাড়াও ন্যানো পার্টিকেল মানবদেহের অসুস্থত এবং ক্ষতির কারণ হতে পারে

ন্যানো প্রযুক্তি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন এই ওয়েবসাইটে।

ন্যানো টেকনোলজি নিয়ে কিছু প্রশ্ন উত্তরঃ-

ন্যানো টেকনোলজির জনক

রিচার্ড ফাইমান কে ন্যানো টেকনোলজির এর জনক বলা হয় । রিসার্চ ফাইমেন ছিল একজন আমেরিকান বিজ্ঞানী।

ন্যানো টেকনোলজি শব্দটি প্রথম কবে ব্যবহার করা হয়েছিল?

এই শব্দটি সর্বপ্রথম ১৯৫৯ সালে একটি বৈঠকের মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল।

অ্যাপেল ওয়াচ কি? কেন কিনবেন? (নতুন ফিচারসহ বিস্তারিত তথ্য)

Leave a Comment