ফিজি গার্মেন্টস ভিসা ২০২৩ | ফিজি গার্মেন্টস ভিসার বেতন কত |

ফিজি গার্মেন্টস ভিসা ২০২৩ | ফিজি গার্মেন্টস ভিসার বেতন কত |

ফিজি গার্মেন্টস ভিসা ২০২৩

ফিজি গার্মেন্টস ভিসা ২০২৩ নিয়ে আজকের আর্টিকেল পরিপূর্ণভাবে সাজানো হয়েছে। আপনারা যারা ফিজি ভিসা সম্পর্কে জানতে চান আজকের আর্টিকেল মূলত তাদের জন্য। আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনারা জানতে পারবেন, ফিজি গার্মেন্টস ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
যেমন, ফিজি যেতে কত টাকা লাগে। ফিজি যাবার উপায়, ফিজি যেতে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন, ফিজি কাজের বেতন কত, থাকার ব্যবস্থা কি, কত ঘন্টা কাজ করতে হয় এই সকল বিষয় সংক্রান্ত আরো অন্যান্য তথ্য জানতে পারবেন। তো চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক এই সকল বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

ফিজি পরিচিতি

ফিজি ওশেনিয়া মহাদেশের একটি দেশ। এই দেশটি ভ্রমণ করার জন্য অনেক বেশি জনপ্রিয় এবং কাজ করার ক্ষেত্রেও। দেশটির আয়তন ১৮,২৭৪ কিলোমিটার। এই দেশটি ছোট হিসেবে অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক শক্তিশালী। এই দেশটির জনসংখ্যা মোট ৯ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৮২ জন। এই দেশটিতে মোট ৩৩২ টি ক্ষুদ্র দ্বীপ রয়েছে। এই সকল দ্বীপগুলো থেকে মাত্র ১০৬ টি ক্ষুদ্র দ্বীপে এদেশের অধিবাসীরা বসবাস করেন।

ফিজি গার্মেন্টস ভিসা

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অনেকেই ফিজিতে কাজ করেছেন। আবার অনেকেই কাজ করার উদ্দেশ্য নিয়ে ফিজি যাচ্ছেন। অনেকে রয়েছেন যারা শুধুমাত্র গার্মেন্টস সেক্টরে কাজ করার জন্য গার্মেন্টস ভিসা নিয়ে যাচ্ছেন। গার্মেন্টস সেক্টরে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে সেখানে সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। তার পাশাপাশি বেতন ও তুলনামূলকভাবে সঠিক রয়েছে।
যে কারণে মূলত গার্মেন্টস ভিসায় যাওয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকছে। ফিজি গার্মেন্টস ভিসার মধ্যে অনেক রকম ক্যাটাগরি রয়েছে। যেমন, সুইং অপারেটর, ইলেকট্রনিক্স, মেকানিক্যাল, ম্যাসন ইত্যাদি। আপনি যে বিষয়ে বেশি দক্ষ আপনি সেই বিষয়ে সেখানে কাজ করতে পারবেন। গার্মেন্টস ভিসা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত দেখে নেয়া যাক।

ফিজি গার্মেন্টস ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে

ফিজি গার্মেন্টস ভিসায় যেতে খরচ হয় ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা। যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। মানে আমরা বোঝাতে চাচ্ছি যে, আপনি যদি মালয়েশিয়া অথবা ওমানে যান তবে আপনার খরচ হবে প্রায় ৫ লক্ষ থেকে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা। আর আপনি ফিজিতে মাত্র আড়াই লক্ষ টাকার মধ্যে যেতে পারছেন। সেই ক্ষেত্রে আমরা বুঝতে পারছি যে ফিজি যেটা কত টাকা লাগে।

ফিজি গার্মেন্টস ভিসার বেতন কত

বর্তমান সময়ে ফিজি বিভিন্ন কোম্পানিতে গার্মেন্টস এ যে সকল কর্মচারীরা কাজ করে তারা প্রতি মাসে আয় করেন ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। প্রাথমিক অবস্থায় যারা ফিজি গিয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করে তারা প্রতি মাসে আয় করেন ৩৫ হাজার টাকার মত। বিভিন্ন কোম্পানি এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির কাজের ওপর নির্ভর করে বেতন কমবেশি হয়ে থাকে।

ফিজি গার্মেন্টস ভিসায় যেতে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন

ফিজি গার্মেন্টস ভিসায় যেতে হলে আপনার বেশ কিছু ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে। যে সকল ডকুমেন্টগুলো ছাড়া আপনারা ফিজি যেতে পারবেন না। যে সকল ডকুমেন্টস গুলো প্রয়োজন হবে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
  • প্রথমত আপনার একটি পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হবে।
  • পাসপোর্ট এর মেয়াদ সর্বনিম্ন ৬ মাস থাকতে হবে।
  • এনআইডি কার্ড এর প্রয়োজন হবে।
  • গার্মেন্টস এর প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন হবে।
  • আপনি যদি কোথাও কাজে নিয়োজিত থাকেন তবে তার প্রমাণ পত্র হিসেবে কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে।
  • সদ্য তোলা ছবির প্রয়োজন হবে।
  • মেডিকেল রিপোর্ট।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
  • করোনার টিকা কার্ড।
এছাড়া ও আরো অন্যান্য ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হতে পারে। আপনি বুয়েসেল অথবা যে এজেন্সের মাধ্যমে যাবেন তারা আপনাদেরকে এ সকল তথ্য পূর্ব থেকেই জানিয়ে দেবে।

ফিজি গার্মেন্টস ভিসায় ওভারটাইম কাজ করা যায়

ফিজে গার্মেন্টস ভিসায় গিয়ে ওভারটাইম কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আপনার কোম্পানির নির্দিষ্ট যে সময় রয়েছে সে সময় কাজ করার পরে। পরবর্তী যে কাজগুলো করবেন তা সবগুলোই ওভারটাইম এর মধ্যে পড়বে। আর ওভারটাইম কাজ করার জন্য আপনাকে অতিরিক্ত খরচ প্রদান করবে। ওভারটাইম সহ কাজ করে আপনারা প্রতি মাসে ৫০,০০০ এর বেশি আয় করতে পারবেন।

ফিজি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কত ঘন্টা কাজ করতে হয়

যারা বর্তমান সময়ে ফিজিতে রয়েছে তাদের কাছ থেকে জানা যায় যে তারা সর্বনিম্ন আট ঘন্টা কাজ করেন। তবে বিভিন্ন সেক্টর অনুযায়ী ৮ ঘন্টা এবং ১০ ঘন্টা পর্যন্ত বেসিক সময় থাকে। এই সময় এরপরে যে কাজগুলো করবেন সব কাজগুলোই ওভারটাইম হিসেবে গণ্য করা হবে।

ফিজির মুদ্রার মান কত

ফিজির ১ ফিজিয়ান ডলার সমান বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ৪৮ টাকা। এক্ষেত্রে আমরা বুঝতে পারছি যে বাংলাদেশের টাকার মান ফিজির চেয়ে অনেক কম। ফিজির ১০০ ডলার সমান বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ৮২৯টাকা।

ফিজি গার্মেন্টস ভিসায় কেন যাবেন

ফিজিতে গার্মেন্টস ভিসা নিয়ে যাবার একটি কারণ হলো সেখানে অন্যান্য কাজের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। গার্মেন্টস সেক্টরে যারা কাজ করে থাকেন তাদের ডিউটি টাইম অন্যান্য কাজের তুলনায় কম থাকে। আর ওভারটাইম হিসেবে কাজ করে প্রতি মাসে বেশি টাকা আয় করা সম্ভব হয়।
গার্মেন্টস ভিসায় গিয়ে আরো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন, থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা কোম্পানি বহন করে থাকে, তার পাশাপাশি দুই বছরের জন্য বিমান ভাড়া সহ যাতায়াত করার জন্য আরও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ কোম্পানি বহন করে থাকেন। মূলত এই সকল সুযোগ-সুবিধা গুলোর জন্য ফিজিতে গার্মেন্টস ভিসা নিয়ে যেতে পারেন।
আরো জানতে ভিজিট করুন

Leave a Comment