বাত ব্যথা কি | বাত ব্যথা কেন হয় | বাত ব্যথার লক্ষণগুলো কি কি |

বাত ব্যথা কি | বাত ব্যথা কেন হয় | বাত ব্যথার লক্ষণগুলো কি কি |

বাত ব্যথা কি

বাত শব্দটা বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের ভেতরে খুবই পরিচিত। যেমন, যেকোনো ব্যথা-বেদনা হাটু, কোমর, ঘাড়, মাংসপেশির ব্যথা, কামড়ানো জাতীয় বা ঝিঝি এগুলাকে সাধারণ মানুষ বাত ব্যথা বলে থাকে।
ডাক্তারদের মতে বাত ব্যথা হলো যদি কোনো মানুষের শরীরে ইউরিক এসিড বেড়ে যায় এটা বাতের একটা অংশ। যদি কেউ আর্থাইটিস রোগে ভোগে হাটু, কোমড়, ঘাড় ইত্যাদি স্থানে ব্যথা বা মারসালে বিভিন্ন ডিজিজ হয় এইসকল সমস্যাগুলোকে ডাক্তাররা বাত বলে থাকে। বাত রোগের ক্ষেত্রে অনেক রকম সমস্যা জড়িত। আর্থাইটিস, ইনজুরি, মার্শাল এর সমস্যা ইত্যাদি সবগুলোকে বাদ বলা হয়ে থাকে।

বাত ব্যথা কেন হয়

মানুষের শরীরে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়ার কারণে বাত রোগের সৃষ্টি হয়। আমরা অনেকেই এ রোগে ভুগে থাকে। যে কারণে আপনারা জানতে আগ্রহী হয় কেন এই রোগটি হয় সে সম্পর্কে। এই রোগটি বেশ কয়েক রকম কারণে হতে পারে। যেমন, বংশগত কারণে এই রোগটি হয়ে থাকে।ডায়াবেটিসের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। নিয়মিত অ্যালকোহল পান করে থাকলে এই রোগ হয়ে থাকে।

কেমন বয়সী মানুষদের বাত ব্যথা হয়

আপনারা অনেকে জানতে চান যে বাতের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো ইম্পর্টেন্স আছে কিনা সে সম্পর্কে। মানে কোন বয়সে বাত হতে পারে। আসলে সাধারণত বাত রোগ এর তেমন কোনো বয়স নাই। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত যেকোনো বয়সের মানুষদের বাত রোগ হতে পারে।
তবে সাধারণত যাদের বয়স চল্লিশ বা তার বেশি তারা বাত ব্যথা রোগে বেশি ভুগে থাকেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে বয়স্করা এই রোগে বেশি ভোগে এবং মহিলারা এ জাতিয়  রোগে বেশি ভোগেন।

মহিলাদের কোমর ব্যথা / বাত ব্যথা

আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি মহিলাদের বাত ব্যথা বেশি হয়ে থাকে। মহিলাদের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোমর ব্যথার প্রকোপ বেশি দেখা যায়। মেকানিক্যাল কারণে মহিলাদের কোমর ব্যথার সৃষ্টি হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক মেকানিক্যাল সম্পর্কে কিছু তথ্য।

মেকানিক্যাল মানে কি

মেকানিক্যাল হচ্ছে আমরা রোগীরা নিজেরা নিজেদের থেকে তৈরি করি। যেমন,
  • ঘন্টার পর ঘন্টা এক জায়গায় বসে কাজ করা।
  • সামনে ঝুঁকে কোন কাজ বেশিক্ষণ ধরে করা।
  • কোন আঘাত পেয়ে থাকা।
ইত্যাদি রকম ভাবে এ রোগ হয়ে থাকে। এরমধ্যে সাধারণত ডিস্ক প্রলাপ্স জনিত সমস্যা হয়। আর বাদ বাকি গুলা লিগামেন্ট ইঞ্জুরি, কার বিচারে প্রবলেম এই সকল সমস্যাগুলো হয়ে থাকে। ডিস্ক প্রলাপ্স জনিত সমস্যা টা সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

বাত ব্যথার লক্ষণগুলো কি কি

বাত ব্যথার লক্ষণ বিভিন্ন ধরনের রয়েছে। আমরা মূলত বাত ব্যথার লক্ষণ গুলো কে দুই ভাগে ভাগ করে থাকি। প্রথমত ইনফ্লামেটরি এবং দ্বিতীয় নাম্বার হলো মেকানিক্যাল। বাত ব্যথার লক্ষণ গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

ইনফ্লামেটরি

ইনফর্মাটরি বলতে বোঝায়, সকালবেলা অনেক রোগী বলে ঘুম থেকে উঠার পরে পুরো শরীরটা আরষ্ট হয়ে আছে। শরীরের জয়েন গুলো ব্যথা করছে, ফুলে ফুলে যাচ্ছে, হাত মুঠি করতে কষ্ট হচ্ছে, আস্তে আস্তে কাজ করার সাথে সাথে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ব্যথাগুলো কবে আসছে। এগুলো এক ধরনের বাত রোগ। এর মধ্যে আরো অনেক ধরন আছে, সেগুলোর মধ্যে এটি প্রধান একটি উপসর্গ।
দ্বিতীয় নম্বর সমস্যাটি হল কাজ করার সাথে সম্পর্ক। যেমন, অনেকক্ষণ কাজ করার কারণে ঘাড়ে সমস্যা হয়। অনেকক্ষণ কাজ করার সময় মাজায় বা কোমরে সমস্যা হয়। অনেকক্ষণ হাঁটলে হাঁটু ব্যথা করে। এগুলো হচ্ছে আরেক ধরনের বাত ব্যথা। এগুলো কাজের সাথে সম্পর্কিত। এগুলোকে আমরা পুরি থেকে মেকানিক্যাল পেন।

বাত ব্যথা কি বেলা বাড়ার সাথে সাথে কম বা বেশি হয়

বেলার সাথে কি বাত ব্যথার সম্পর্ক আছে

আসলে হয়তো অনেকেই জানেন না বেলার সাথে বাত ব্যথার সম্পর্ক আছে কিনা সে সম্পর্কে। বাত ব্যথা বেলার সাথে সম্পর্ক রয়েছে। যেগুলোকে আমরা ইনফ্লামেটরি পেন বলে থাকে। এই সকল রোগ গুলো রেস্ট করতে গেলেই বেশি হয়ে থাকে। মানুষ যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকে তখন তার রেস্ট হয় যে কারণে সকালে বেশি ব্যথা অনুভূত হয়। যে সবাই ঘুম থেকে ওঠেন সেসময় বাতের প্রাদুর্ভাব টা সবচেয়ে বেশি থাকে। বেলা বারা বা কাজ করার সাথে সাথে ব্যথা কমতে থাকে।

Leave a Comment