বিদেশ যাওয়ার পূর্বে করণীয় ও প্রস্তুতি 2023 | এজেন্সির চুক্তিপত্র পরীক্ষা করব কিভাবে | বিদেশ যেতে কত টাকা লাগে |

বিদেশ যাওয়ার পূর্বে করণীয় ও প্রস্তুতি 2023 | এজেন্সির চুক্তিপত্র পরীক্ষা করব কিভাবে | বিদেশ যেতে কত টাকা লাগে |


বর্তমান দেশের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে দেশের প্রায় ৬০ % যুবকের প্রধান স্বপ্ন হল বিদেশে যাওয়া। এবং এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে প্রতিটা যুবক সামনে অগ্রসর হতে থাকে। তবে দেখা যায় অনেকের অসচেতনতা এবং বেখেয়ালের অভাবে বিদেশ যাওয়া নিয়ে প্রতারণার ঝুঁকিটা দিন দিন বেড়েই চলেছে।


যার ফলে বিদেশে যাওয়ার পূর্বে কোন বিষয়গুলো করতে হয় এবং কোন বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকতে হয় সে সম্পর্কে একজন মানুষের জানাটা অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়। তাই আসুন বিদেশ যাওয়ার পূর্বে কোন ধরনের কাজগুলো করতে হয় সে সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করি।

বিদেশ যাওয়ার পূর্বে করণীয় ও প্রস্তুতি 2023

আসসালামুআলাইকুম প্রিয় পাঠক আশা করি ভাল আছেন। আপনাদের বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পর্কে কিছু তথ্য শেয়ার করব। আমি একটু বিস্তারিত বলার চেষ্টা করব একটু দীর্ঘায়িত হতে পারে আপনারা ধৈর্য্য সহকারে পড়বেন ইনশাআল্লাহ। বিদেশ যাবার পূর্বে বেশকিছু প্রস্তুতি করণীয় বিষয় রয়েছে আজকে আমি আপনাদের সাথে সে জিনিসগুলো বিস্তারিত শেয়ার করার চেষ্টা করবো।

  • বহির্গমন ছাড়পত্র

আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে অথবা নিজ উদ্যোগে এনওসি,ওয়ার্ক পারমিট, এন্টি  পারমিটযেকোনোভাবে বহির্গমন ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে

ছাড়পত্রের জন্য যে কাগজপত্রগুলো প্রয়োজন

  • পাসপোর্টে অবশ্যই ৬ টি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে, অবশ্যই পৃষ্ঠাসহ।
  • মূল ভিসার ফটোকপি, সেটা হতে পারে ওয়ার্ক পারমিট, এন্ট্রি পারমিট,এনওসি অথবা এডভাইস।
  • দেড়শ টাকা মূল্যায়নের একটি স্ট্যাম্প ব্যক্তিগত অঙ্গীকারনামা প্রয়োজন হবে। সেটি অবশ্যই নন-জুডিশিয়াল।
  • পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা থেকে একটি রিলিজ অর্ডার।

বিদেশ যাওয়ার আগে দেখে নিন নিম্নবর্ণিত কাগজগুলি আপনার কাছে রয়েছে কিনা

  • একটি বৈধ ভিসা
  • মেডিকেল রিপোর্ট
  • যে কোম্পানিতে চাকরি করবেন সেই কোম্পানির চুক্তিপত্র
  • কমপক্ষে ছয় মাসের মেয়াদ সম্পূর্ণ একটি বৈধ পাসপোর্ট
  • একটি সচল ব্যাংক একাউন্ট
  • যে দূতাবাসের মাধ্যমে যাচ্ছেন সে দূতাবাসের ঠিকানা এবং ফোন নম্বর
  • জনশক্তি ব্যুরো থেকে প্রদানকৃত ছাড়পত্র
  • এয়ারলাইনস টিকেট
  • এজেন্সিকে টাকা প্রদানের রশিদ ও চুক্তিপত্র

বিদেশ যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে যে আপনি উপরে বর্ণিত প্রতিটি জিনিস নিয়েছেন কিনা। মূলত এই জিনিসগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এজেন্সির চুক্তিপত্র পরীক্ষা করব কিভাবে

বিদেশ যাবার পূর্বে আমাদের অনেক বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়। কারণ বিদেশ যাওয়া নিয়ে প্রতারণার শেষ নেই। অনেক দালাল চক্র নানান ধরনের ফাঁদ পেতে বসে থাকে। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে এজেন্সি চুক্তিপত্র পরীক্ষা করে নেওয়া সবথেকে বেশি ভালো। আসুন জেনে নেই কোন কোন বিষয়গুলো  থাকলে আপনি শিওর হবেন এজেন্সি চুক্তিপত্র সঠিক।

  • চাকরির নাম
  • আপনাকে যে ব্যক্তি চাকরি দিবে তার নাম 
  • যে কোম্পানিতে চাকরি দিবে সে কোম্পানির নাম, এবং কোম্পানির ঠিকানা।
  • মাসিক বেতন কত টাকা ধরা হবে তাহলে থাকবে
  • চাকরির মেয়াদ উল্লেখ থাকবে
  • বাৎসরিক কতদিন ছুটি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য উল্লেখ থাকবে
  • যাওয়া-আসা এয়ারলাইন্স ভাড়া কত তা উল্লেখ থাকবে
  • নিয়মিত কর্মঘন্টা এবং ওভারটাইম লেখা থাকবে
  • ছুটির সময় বেতন দিবে নাকি বেতন ছাড়া ছুটি দেবে সেটা উল্লেখ থাকবে
  • অসুস্থতা এবং মেডিকেল স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা
  • খাবার ভাত এবং বাসস্থান বা তা উল্লেখ থাকবে
  • বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিক মিলিত হলে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা

মূলত এ বিষয়গুলো এজেন্সি চুক্তি পত্রে লিখা থাকবে। এ বিষয়গুলোর সন্দেহভাজন হয়ে থাকে তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিদেশ যেতে কত টাকা লাগে

তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে বিদেশ যাওয়া আমাদের কাছে একবাড়ি থেকেও অন্যবাড়ি যাওয়ার মত। ব্যবসা-বানিজ্যের কাজে কখনোবা ভ্রমণের জন্য কিংবা অর্থ উপার্জনের আশায় আমরা হরহামেশাই বিদেশ অধিবেশন করে থাকে। তবে বিদেশ যেতে কত টাকা লাগে সেটা সম্পর্কে আমরা সবাই সঠিকভাবে জানিনা। বিদেশ যেতে কত টাকা লাগে সে সম্পর্কে আজ বিস্তারিত জানাবো।

পৃথিবীতে মোট মহাদেশ ৭ টি। ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা সব থেকে বেশি ইউরোপ মহাদেশের পাড়ি জমাই।ভ্রমণের জন্য আমরা এশিয়ার দেশগুলো নির্বাচন করলেও উচ্চবিলাসী ভ্রমণের জন্য আমরা ইউরোপে অধিবেশন করি। এছাড়াও ইউরোপ মহাদেশের অনেক বড় বাংলাদেশি শ্রমবাজার রয়েছে। আসুন জেনে নেই কোন ভিসায় বিদেশ যেতে কত টাকা লাগে।

শ্রমিক ভিসায় বিদেশ যেতে কত টাকা লাগে

শ্রমিক বিদেশ যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা লাগতে পারে। তবে দালাল ও এজেন্সির চুক্তিপত্র অনুযায়ী টাকার পরিমাণ কমবেশি হওয়াটা স্বাভাবিক। এছাড়াও দেশভাগে টাকার কম বেশি হতে পারে। যেমন ইউরোপের দেশগুলোতে গেলে যে পরিমাণ টাকা খরচ হবে এশিয়ার দেশগুলোতে গেলে কত টাকা খরচ হবে না। এশিয়ার দেশগুলোতে মূলত চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকায় শ্রমিক ভিসা পাওয়া যাবে।

টুরিস্ট ভিসায় বিদেশ যেতে কত টাকা লাগে

টুরিস্ট ভিসায় বিদেশ যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হবে। তবে ভ্রমণ করার জন্য আপনি যে দেশে যাচ্ছেন সেখানে কেমন জীবন যাপন কাটাবেন সেটার ওপর টাকার পরিমাণ নির্ধারিত হবে। বিলাসবহুল জীবন যাপনের জন্য অন্য রকম খরচ হবে। এছাড়াও বিদেশি ভাষার জন্য দ্বিভাষী প্রয়োজন হবে না অনেক ব্যয়বহুল।

দালাল ছাড়া কি বিদেশে যাওয়া যায়

আপনারা অনেকেই রয়েছেন যারা বাংলাদেশ থেকে বিদেশ যেতে চান। কিন্তু আপনারা অনেকেই জানেন না যে দালাল ছাড়া ও বিদেশে যাওয়া সম্ভব। সচরাচর আমরা দেখতে পাই যে কোন মানুষ বিদেশ যেতে চাইলে তা দালালের মাধ্যমে বা দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাই। যে কারণে আপনারা অনেকেই জানতে আগ্রহী হন যে দালাল ছাড়া বিদেশ যাওয়া সম্ভব কিনা সে সম্পর্কে।
দালাল ছাড়া বিদেশ যাওয়া সম্ভব। আপনি যদি কাজে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে আপনি সরকারিভাবে আপনার দক্ষতা দিয়ে আপনি বিদেশে যেতে পারবেন। সরকারিভাবে বিদেশে গেলে খরচ অনেকাংশে কমে যায়। আপনারা যারা সরকারিভাবে বিদেশ যাবেন তারা কখনোই দালালদের সাথে জড়িত হবেন না।

দালাল ছাড়া কিভাবে বিদেশ যাবো

বিদেশ যাওয়ার জন্য মূলত দুইটি জিনিস প্রয়োজন হয়। যে দেশ থেকে যাবেন সে দেশের পারমিশন। আর যে দেশে যাবেন সেই দেশের পারমিশন। আমরা সকলেই পাসপোর্ট করতে পারি। দালাল ছাড়া বিদেশ যেতে চাইলে আপনাকে সব বিষয়গুলো আগে ভালোভাবে জানতে হবে। তারপর আপনি ভিসার জন্য এপ্লাই করতে পারেন। আপনি যে কাজের জন্য যাচ্ছেন সেটা খুব ভালোভাবে উল্লেখ করবেন। আপনার ব্যাংক একাউন্টে যদিও অনেক টাকা থাকে তাহলে আপনার বিদেশ যেতে পারবেন। অথবা অনেক দেশ ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য ভিসা পাওয়াটা খুব সহজ। বিদেশে যাওয়ার জন্য অবশ্যই আমি আপনাকে আবেদন করতে হবে।
দেশের সকল জেলার বিদেশগামী কর্মীদের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ৯-০২-২০২০ থেকে। তবে তাদেরকে প্রাথমিকভাবে ঢাকায় এসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জেলা কর্মসংস্থান অফিস এসে নিবন্ধন করতে হবে। অর্থাৎ নিলফামারীর মানুষটিকেও ঢাকায় নিবন্ধন করতে হবে তবে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে পর্যায়ক্রমে তারা সকল জেলা কর্মসংস্থান অফিস এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এই নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। মাঠ পর্যায়ের এজেন্ট এর সাথে যোগাযোগ করে বিদেশ যেতে হবে না। আপনি নিবন্ধিত হলে আপনাকে তারা খুঁজে নেবে রিক্রুটিং এজেন্সি বা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়

আপনি যদি কোন কাজে দক্ষ হন তাহলে আপনি আপনার দক্ষতার মাধ্যমে সরকারিভাবে বিদেশে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে সরকারিভাবে বিদেশে যেতে পারলে আপনার ব্যাক্তিগত ভাবে খুবই বেশি খরচ হবে না। আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তাহলে আপনারা স্কলারশিপ এর মাধ্যমে সরকারিভাবে বিদেশ যেতে পারবেন।
সরকারিভাবে যে সকল নাগরিক দেশের বাহিরে যেতে চান তাদের জন্য সবথেকে সহজ কাজটি হলো বাংলাদেশের বুয়েসেল নিবন্ধিত যে এজেন্সি রয়েছে যোগাযোগ করা। একটু এজেন্সি থেকে আপনি সঠিক তথ্য পাবেন। এবং কোন সময় কোন দেশে কোন কাজের উপরে শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয় সে সম্পর্কে সর্বশেষ আপডেট তথ্য পাওয়া যাবে উক্ত এজেন্সিতে। তাই অবশ্যই যেটা সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চান তারা সকলে এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।

ফ্রী বিদেশে যাওয়ার উপায়

অনেকেই রয়েছেন যারা ফ্রি বিদেশে যাওয়ার উপায় লিখে সার্চ দেন। আমরা পরিসংখ্যান ঘেটে দেখলাম আপনারা প্রতিদিন গড়ে ১০০ জন করে গুগলে সার্চ করেন ফ্রী বিদেশে যাওয়ার উপায় লিখে। কিন্তু এ বিষয়ে গুগল বা ইউটিউবে কোন কন্টাক্ট নেই। তার মানে আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করছি ফ্রী বিদেশে যাওয়ার কোন উপায় নেই।
কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী আছে যারা ফুল ফ্রি স্কলারশিপ এ ফ্রি বিদেশে যায়। সাধারণ আমজনতার পক্ষে সম্ভব নয়। আশা করি এই বিষয়ে আপনারা গুগলে সার্চ করে অযথা সময় অপচয়’ করবেন না। আপনি যদি বিদেশে যেতে চান তাহলে ফ্রি বিদেশে যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে আপনার জেলা কর্মসংস্থান যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যোগাযোগ করুন।

Leave a Comment